
বাংলালিংকের একটা এড আছিল না দিন বদলের চেষ্টা? দিন অনেক বদলায় গেছে । একেবারে আমাদের চিন্তার বাইরে বদলাইয়া গেছে ।
মানুষ মরলে মরা মানুষের লগে গিয়া এখন সেলফি তুলা হয় । সেইটা আবার ফেসবুকে আনন্দের সাথে শেয়ারও হয়। লেখা হয় উমুকের শেষ কৃত্যে আমি তমুক । চিন্তা করেন কি পরিমাণ দিন বদলাই গেছে!
আমরা অনেক অ্যাডভান্সড হইছি । সত্যিই অনেক অ্যাডভান্সড । সব জায়গায় এখন নিজের বিজ্ঞাপন প্রচার করি । সেটা দায়িত্ব হলেও করি আবার বিজনেসের প্রসারের জন্যেও করি । অথচ মুসলিম হিসেবে দানের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষেধ এটা আমরা সবাই কমবেশি অবগত । কিন্তু আমরা সেইটাই খুব যত্নের সাথে চর্চা কইরা যাইতাছি । আল্লাহ মালুম আখিরাতে আল্লাহ আমাদের জন্য কি শাস্তি রেডি করতাছেন!
আমরা জানি যে দান যদি দেখায় করা হয় সেইটা আর দান থাকেনা। এইটা দান গ্রহীতার সাথে উপহাস করা এবং এতে দান গ্রহীতাকে সরাসরি অপমানিত করা হয়। তারপরও আমরা দান করার সময় ছবি তুলতাছি তারপর আবার সেইটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতাছি। অথচ সবাই জানি যে এমনভাবে দান করা উচিত যাতে বাম হাতের খবর দান হাত টের না পায় । মনে রাখা উচিত যে ধোনিদের টাকায় আল্লাহ গরিবের অংশ রাখছেন। আপনি দান করে গর্বে বুক ফুলিয়ে দাঁত কেলিয়ে যে ছবি তুলতাছেন, সেই ছবিতে আপনার গরিবি হীনমন্যতাই বেশি প্রকাশ পাইতাছে।
আমি দেখি মসজিদে গিয়াও এখন মানুষ সেলফি তুলে। আবার মোলাকাতের ছবি তুলে, কেউ মোনাজাতের ছবি তুলে । কেউবা আবার বক্তৃতা করার সময় ভিডিও করতে বলে । আচ্ছা মসজিদ কি নাট্যশালার না মোলাকাত শালা ? এখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য কি ? আল্লাহ এদের বুঝ দেও মানুষ কর । মসজিদ তো মসজিদ, এই শয়তানগুলো মক্কা শরীফও বাদ রাখেনাই । মক্কাতে এরা যত না যায় ধর্ম কর্ম করতে, এর বেশি যায় এরা ফুটানি দেখাইতে । অথচ এরা ভাবে কি পুন্যই না তারা কইরা ফালাইতাছে দুনিয়াতে ।
আমাদের অনেকেই আবার মা বাবার সেরা সন্তান হওয়ার প্রতিযোগিতায় ফেইসবুক কাঁপায় ফেলতাছে । মা বাবাকে বুকে নিয়ে ছবি, কুলে নিয়ে ছবি, খাইয়ে দেয়ার ছবি, সাজিয়ে দেয়ার ছবি, এইসবের ছোট ছোট রিল বানাইয়া ফেসবুকে পোস্টাইয়া একদম এযুগের বায়জিদ হইয়া গেছে। আরে বেটা, মা বাবার সেবা করার জন্য ফেসবুকে কেন পোস্ট দিতাছেন বুঝিনা ? ভাব দেখানোর জন্য ? বাহবা পাওয়ার জন্য ?আরে ভাই এইটা তো আপনার দায়িত্ব আর কর্তব্য। দায়িত্ব কর্তব্যের ব্যাপারে কি বাহবা লাগে? সামনে অনেকেই হয়তো প্রশংসায় আপনার ছাতি ফুলিয়ে দিতাছে , কিন্তু পিছনেই আপনার কর্মকান্ডে হাসাহাসি করতাছে । আপনি সামাজিক জীব হলে সে সব দেখতে পাইতেন ।
আপনি চাকরি করতাছেন ৩৫ হাজার টাকা বেতনের । ধরলাম আপনার বউ সহ আপনার আয় হইল ৭০-৮০ হাজার টাকা । কিন্তু ঢাকায় আপনার দুই জায়গায় ফ্ল্যাট বুকিং দেয়া এবং দুই জায়গায় জমি কেনা । আপনি বেতন পান অল্প অথচ সবাই জানে আপনি ফ্ল্যাট কিনতাছেন গাড়ি কিনতাছেন জায়গা কিনতাছেন। কিভাবে যে কিনতাছেন সেইটাও কিন্তু তারা জানে। সুতরাং আপনি যখন দাঁত কেলাইয়া গর্ব কইরা তাদের সামনে এসব নিয়া মাতামাতি করেন, সেইটা নিয়াও আপনার সমালোচনা হয় । কিন্তু অনেকে আপনার সামনে বলেনা; কারণ আপনি কষ্ট পাবেন । ধুর মিয়া, কিসের কষ্ট আপনার তো মন ই নাই ।
এলাকার আপনি নেতা হইছেন। বা হইতে চান । ভালো কথা, নেতা হওয়া ভালো । জনগণের জন্য কাজ করলেই নেতা হওয়া যায় । তাদের পাশে থাকেন । সুখে দুঃখে একে অন্যের অনুভূতি বভাগ কইরা নেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান। সাহায্য করেন। তাহলে আপনি অটোমেটিকে নেতা হইয়া যাইবেন। নেতার জন্য পোস্টার দরকার হয়না। দরকার হয় কাম । কামেই নেতার পরিচিতি । এই যেমন, চাঁদ উঠলে এর আলো এসে পড়ে পৃথিবীতে । সেরকম নেতা হন । কর্মকাণ্ডে আপনার খোঁজ নাই, পিস্টারিং দিয়ে এলাকা ঢাইকা দিয়ে নেতা সাজতাছেন ।
দিন অনেক বদলাইছে । তবে সেটা খারাপের দিকে বেশি । আমরা মানুষের থাইকা পণ্য বেশি পছন্দ করি । তাই দিন দিন আমরা পণ্যেই পরিণত হইতাছি ।